Header Ads

Header ADS

পানি বাহিত রোগ গুলি কি কি? পানি বাহিত রোগের করনীয় কি?

 

image



দূষিত পানি এবং দুর্বল স্যানিটেশন কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, হেপাটাইটিস এ, টাইফয়েড এবং পোলিওর মতো রোগের সংক্রমণের সাথে যুক্ত। অনুপস্থিত, অপর্যাপ্ত, বা অনুপযুক্তভাবে পরিচালিত জল এবং স্যানিটেশন পরিষেবাগুলি ব্যক্তিদের প্রতিরোধযোগ্য স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে প্রকাশ করে।

যেসব সতর্কতা অবলম্বন করলে এই রোগ থেকে দূরে থাকা যায়। তা হল-

ফুটানো পানি পান করা : পানি ফুটানোর মাধ্যমে পানি থেকে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য পরজীবীর মতো ক্ষতিকারক রোগজীবাণু নির্মূল করা যায়। আর এটাই সর্বোৎকৃষ্ট উপায় পানি থেকে জীবাণু ধ্বংস করার। ১ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ৩ মিনিট পর্যন্ত পানি ফোটানোর পর ঠাণ্ডা করে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া ফোটানোর বিকল্প হিসেবে পরিশোধন ট্যাবলেট বা পানির ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। এ পদ্ধতির মাদ্ধমে কার্যকরী ভাবে জীবাণু নির্মূল করা হয়।


বন্যার পানি ব্যবহার না করা : পয়:নিষ্কাশন, রাসায়নিক পদার্থ এবং বিভিন্ন আবর্জনার কারণে বন্যার পানি দূষিত হয়। প্লাবিত অঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকে পড়ার কারনে মানুষ এই দূষিত পানির সংস্পর্শে আসে এবং ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি  তৈরি হয়। রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু, যা বিভিন্নভাবে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। অতএব সংস্পর্শ এড়াতে পানিরোধী বুট এবং গ্লাভ্স ব্যবহার করা যেতে পারে। 


ঘরের মেঝে জীবাণুমুক্ত করা: বন্যায় আক্রান্ত এলাকা গুলোতে  দূষিত পানিরোগ-জীবাণু ছড়ায়। সাধারণত গ্রামের ঘর-বাড়ি এবং শহরের নিচ তলার দালান গুলোর বারান্দা ও ঘর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ঘরের মেঝে, ফার্নিচার, দরজার হাতল এবং পানির কলগুলো জীবাণুমুক্ত করা আবশ্যক। ব্লিচিং দ্রবন এর জন্য এক গ্যালন (৫লিঃ) পানিতে এক কাপ ব্লিচ পাউডার জীবানু নাশক তৈরি করা হয়। এই তৈরিকৃত দ্রবণ দিয়ে প্রতিটি স্থান মুছতে হবে। পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার আগে দ্রবণটিকে কমপক্ষে ১০ মিনিটের জন্য ভালভাবে মিশতে দিতে হবে। ডিস্পোজেবল গ্লাভস পড়ে কাজ করতে হবে, আর ধোয়া-মোছার সময় জানালা খুলে দিয়ে ঘরে বাতাস চলাচল সহজ করতে হবে।


শুকনো খাবার, পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী সংরক্ষণ করা: টিনজাত, প্লাস্তিকজাত এবং শুকনো খাবারের মতো অপচনশীল খাবার বা যে গুলোর রান্না করা প্রয়োজন হয় না, এমন খাবার জমিয়ে রাখতে হবে। যেমন- চিড়া, মুড়ি, খই, চিনি, গুর, ইত্যাদি। পানীয় অর্থাৎ বিশুদ্ধ পানি, নারকেল, ডাব ইত্যাদি ও স্যানিটেশনের  জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত পানি সঞ্চয় করতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রতিটি ওষুধ ( প্যারাসিটামলএজিথ্রোমাইসিনসর্দি-কাশি ইত্যাদি ) সংরক্ষণ রাখতে হবে।


বর্জ্য অপসারণ: নালা-নর্দমা এবং বন্যার কারনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ বা ময়লা-আবর্জনার স্তুপ সঠিক ভাবে অপসারণ করা দরকার। ময়লা-আবর্বজনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট ঝুড়ি বা ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে এবং তা সময় মতো পরিষ্কার করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। 


সিটি করপোরেশনের কাজে নিয়োজিত কর্মীরা যথাসম্ভব দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করতে পারছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এই বিষয়ে এলাকার সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কারন অব্যবস্থাপনার শিকার হওয়া বর্জ্য হেপাটাইটিস-ই এবং গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের মতো রোগ ছড়াতে পারে।


বৃষ্টির পানি কাজে লাগানো: খোলা জায়গায় আকাশ থেকে পড়ন্ত বৃষ্টির পানি সরাসরি একটি পরিষ্কার পাত্রে সংগ্রহ করা যায়। যেখানে বা যখন এই সুযোগ নেই, সেখানে বা তখন পানি সংগ্রহের পর তা একটি পরিষ্কার কাপড়ের মাধ্যমে ফিল্টার করতে হবে। তারপর ১ মিনিট থেকে ৩ মিনিট পানি সিদ্ধ করে ঠাণ্ডা অবস্থায় পানি বাবহার করা যাবে। 


ঘরে উন্মুক্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখা: বন্যা বা ভারি বৃষ্টি পাতের পর স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্বল ফুসফুস বা শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা আক্রান্ত ব্যক্তিদের এটি স্বাস্থ্য জটিলতাকে বাড়িতে পারে। ঘরের আর্দ্রতা কমাতে বৈদ্যুতিক ফ্যান, লাইট এবং ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।


টিকা ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা: বন্যা-আক্রান্ত এলাকায় প্রত্যেকের কলেরা, টাইফয়েড এবং হেপাটাইটিস-এ পানিবাহিত রোগের লক্ষণ টেস্ট করা জরুরি। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রত্যেককে টিকা ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা দ্রুত নিতে হবে।


বন্যা পরবর্তী পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে এ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো জরুরি। 

কোন মন্তব্য নেই

কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ

belknap থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.