Header Ads

Header ADS

সর্দি-কাশি হওয়ার কারন, লক্ষণ এবং প্রতিকার। Cold and cough causes, symptoms and remedies.



সর্দি-কাশি হওয়ার কারন, লক্ষণ এবং প্রতিকার।

রোগের নাম        সর্দি-কাশি।

ঠাণ্ডা-কাশি, ঠাণ্ডা লাগা, সর্দি জ্বর, তীব্র ভাইরাস ঘটিত নাসা প্রদাহ, গলবিল প্রদাহ, ভাইরাস ঘটিত নাসা প্রদাহ

বিশেষত্ব            সংক্রামক রোগ।

লক্ষণ                ছোট ছোট কাশি, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, জ্বর। 

জটিলতা         কানে প্রদাহ, গলায় প্রদাহ হলে জতিলতা সৃষ্টি হয়।

রোগের সূত্রপাত আক্রান্ত হবার আনুমানিক ০২ দিন পর থেকে প্রকাশ পেতে থাকে।

স্থিতিকাল         ১ সপ্তাহ থেকে ০৩ সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে।

কারণ         ভাইরাস দ্বারা সংঘটিত হয়।

পার্থক্যমূলক        রোগ নির্ণয় অতি প্রতিক্রিয়া জনিত নাকের প্রদাহ, ক্লোমনালী প্রদাহ, হুপিং কাশি (খুংড়ি কাশি), গলার প্রদাহ।

প্রতিরোধ            হাত ভাল ভাবে পরিষ্কার করে ধোয়া, মুখোশ (মাস্ক) পরা।

চিকিৎসা         উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা।

ঔষধ                স্টেরয়েড বিহীন প্রদাহ নিরোধী ঔষধ (NSAID)

সংঘটনের হার সাধারণত বছরে ২ থেকে ৪ বার (প্রাপ্তবয়স্ক) এবং  অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বছরে ৬ থেকে ৮ বার (শিশু)।

সর্দি-কাশি, ঠাণ্ডা-কাশি, ঠাণ্ডা লাগা বা সর্দি-জ্বর এক ধরনের ভাইরাস ঘটিত সংক্রামক রোগ যা মানবদেহের ঊর্ধ্ব শ্বাসপথ, বিশেষ করে নাকে আক্রমণ করে। এছাড়া এই রোগে গলবিল, অস্থিগহ্বর ও স্বরযন্ত্রও আক্রান্ত হতে পারে। ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবার দুই দিন পর বা তারও আগেই এই রোগের লক্ষণ ও উপসর্গগুলি প্রকাশ পেতে পারে। উপসর্গগুলি মধ্যে আছে (ক) কাশি, (খ) গলাব্যথা, (গ) নাক দিয়ে পানি পড়া, (ঘ) হাঁচি, (উ) মাথাব্যথা, (চ) জ্বর। সর্দিকাশিতে অসুস্থ ব্যক্তি সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠে, তবে কিছু উপসর্গ তিন সপ্তাহ পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। সর্দি-কাশি হওয়া ব্যক্তির অন্য কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকলে তার নিউমোনিয়া অর্থাৎ ফুসফুস প্রদাহ হতে পারে।


এ পর্যন্ত ২০০ এর বেশি শ্রেণীর ভাইরাস শনাক্ত করা গেছে, যেগুলি সর্দি-কাশি সৃষ্টি করতে পারে, তবে এদের মধ্যে রাইনো ভাইরাস সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। ভাইরাস বাতাস দ্বারা বাহিত হয়ে আক্রান্ত রোগীর দেহ থেকে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকে অন্য ব্যক্তির দেহে সরাসরি ছড়াতে পারে। আক্রান্ত রোগী কোনও বস্তু ধরলে সেখানে ভাইরাস লেগে থাকতে পারে এবং অন্য ব্যক্তি সেই বস্তুটি হাতে ধরে পরবর্তীতে মুখে বা নাকে হাত দিলে ভাইরাস পরোক্ষভাবে আক্রমণ করতে পারে। শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে যাতায়াত করলে, ভালো ঘুম না হলে এবং মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি থাকে। সর্দি-কাশির উপসর্গগুলি ভাইরাসের দ্বারা দেহকলা আক্রমণ বা ধ্বংসের কারণে সৃষ্ট হয় না, বরং মূলত এগুলি ভাইরাসের বিরুদ্ধে দেহের অনাক্রম্যতন্ত্র তথা প্রতিরক্ষাতন্ত্রের প্রতিক্রিয়ার ফসল। সাধারণ সর্দি-কাশির উপসর্গের সাথে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আক্রমণের কারণে সৃষ্ট রোগের উপসর্গের মিল থাকলেও ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলির তীব্রতা অনেক বেশি হয়। অধিকন্তু ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে নাক দিয়ে পানি পড়ার সম্ভাবনা সাধারণত কম থাকে।


সর্দি-কাশির জন্য কোনও টিকা নেই। সর্দি-কাশি প্রতিরোধের প্রধান উপায় হল হাত ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখা, আধোয়া হাতে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ না করা, এবং সর্দি-কাশিতে অসুস্থ ব্যক্তির থেকে দূরে থাকা। রোগ প্রতিরোধমূলক মুখোশ পড়লে উপকার হয়, এমন কিছু প্রমাণও পাওয়া গেছে।সর্দি-কাশির জন্য কোনও চিকিৎসা বা ঔষধও নেই, তবে এর উপসর্গগুলি প্রশমন করা সম্ভব। কিছু চিকিৎসা গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী উপসর্গগুলি প্রকাশ পাবার ঠিক পরপরই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দস্তাভিত্তিক ঔষধ ব্যবহার করলে উপসর্গের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব উভয়ই কমে যাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। স্টেরয়েড বিহীন প্রদাহনিরোধী ঔষধ (NSAID) যেমন আইবুপ্রোফেন প্রদাহ জনিত ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে ব্যাকটেরিয়া নিরোধক তথা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। আর কফের ঔষধের কার্যকারিতার তেমন ভাল প্রমাণ নেই। 


সর্দি-কাশি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ঘনঘন সংঘটিত সংক্রামক ব্যাধি। গড়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতি বছরে দুই থেকে তিন বার এবং একটি শিশু প্রতি বছরে গড়ে ছয় থেকে আটবার সর্দি-কাশিতে ভুগতে পারে। তবে শীতকালে এই সংক্রমণটি বেশি পরিলক্ষিত হয়। এ কারণেই হয়ত বাংলায় এটিকে "সর্দি-কাশি" বা "ঠাণ্ডা-কাশি" বলে। "সর্দি" কথাটি একটি ফার্সি শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ "ঠাণ্ডা ভাব"। সমগ্র মানব ইতিহাস জুড়েই সর্দি-কাশির সংক্রমণ হয়ে এসেছে।


লক্ষণ ও উপসর্গ

সর্দিজনিত লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে কাশি, সর্দি, হাঁচি, অনুনাসিক জঞ্জাল এবং গলা ব্যথা, কখনো কখনো পেশী ব্যথা, ক্লান্তি, মাথা ব্যথা এবং ক্ষুধা হ্রাস পায়। প্রায় ৪০% ক্ষেত্রে গলাতে কালশিটে এবং ৫০% ক্ষেত্রে কাশি থাকে৷ যখন এই সমস্যা ঘটে তখন পেশী ব্যথা প্রায় অর্ধেক সময় থাকে।প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণত জ্বর লক্ষণ হিসাবে দেখা যায় না। তবে এটি শিশু এবং অল্প বয়স্ক শিশুদের মধ্যে এটি সাধারণ লক্ষণ। কাশি সাধারণত সহনীয় ইনফ্লুয়েঞ্জার তুলনায় হালকা হয়। সাধারণত কাশি এবং জ্বর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা হওয়ার বড় সম্ভাবনা নির্দেশ করে। দুইটি এক না হলেও দুটি অবস্থার মধ্যে অনেকটাই মিল রয়েছে৷ এই সমস্যা সাধারণত সর্দি সৃষ্টিকারী বেশ কয়েকটি ভাইরাস সংক্রামিত সংক্রমণ থেকে হতে পারে৷


ফ্লু ও সর্দি-কাশি থেকে সুরক্ষা
  • নিয়মিত কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। ...
  • অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। ...
  • অসুস্থ মানুষের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। ...
  • ব্যায়াম করুন ও সুস্থ জীবনধারা মেনে চলুন।
  • সাধারণ সর্দি-কাশির কার্যকর ভ্যাকসিন নেই।

সর্দি কাশি হলে কি কি খাওয়া উচিত?
  • সর্দি বা ফ্লু হলেই গরম পানি খাওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। কিন্তু সবসময়ই যে গরম পানি খেতে হবে এমন কোনো কথা নেই।
  • চিকেন স্যুপ ফ্লু বা সর্দির সময় চিকেন স্যুপ বেশ উপাদেয়।
  • গরম চা গরম চা মানে দুধ চা নয়৷ বরং লাল চা যদি ঠান্ডার সময় খেতে পারেন তবে প্রচুর এন্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যাবে।
  • কলা
  • কমলা
  • কুমড়োর বীজ

কোন মন্তব্য নেই

কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ

belknap থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.