রাগের সমস্যায় আক্রান্ত শিশুকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
রাগের সমস্যায় আক্রান্ত শিশুকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
প্রত্যেক টি শিশু চায় বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে। প্রত্যেকটি শিশু নিজ থেকে বড়দের কাছে প্রাধান্য চায়। ভালোবাসা এবং সহানুভূতি তো সাথে চায় অবশ্যই। এগুলোর কোন একটি ঘাটতি হলে শিশু রাগ করে। শিশু তার রাগ প্রকাশের কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে প্রচণ্ড হতাশা এবং জেদ থেকে অসামঞ্জস্য আচরণ করতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে সে যা যা করেতে পারে।
১) চিৎকার করতে পারে।
২) দেয়ালে মাথা ঠুকতে পারে।
৩) মেঝেতে গড়াগড়ি খেতে পারে।
৪) হাতের জিনিস পত্র ফেলে দিতে পারে।
৫) জিনিস পত্র ভেঙ্গে ফেলতে পারে, ইত্যাদি
এই পরিস্থিতি বাবা মা কীভাবে সামাল দেবেন?
অধ্যাপক কামাল ইউ এ চৌধুরী বলেন— শিশুদের প্রথম শিক্ষা কেন্দ্র হল তার পরিবার এবং তারপর সমাজ। শিশুরা যা প্রকাশ করে তা সে পরিবার এবং সমাজ থেকে শিখেই করে। শিশুরা যা দেখে তাই সে করে থাকে। তাই বলা যায় শিশুর সঙ্গে কেমন আচরণ করছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সদস্যদের রাগ প্রকাশের ভঙ্গি দেখে এবং সেভাবেই রাগ প্রকাশ করতে শেখে। শিশুর কাছে ভালো আচরণ আশা করছেন তবে তার সামনে ভালো আচরণ প্রদর্শন করবেন। শিশু রেগে গেলে তার প্রতি খুব রাগ প্রকাশ করবেন না। তাকে আহত বা আঘাত করা থেকে বিরত থাকুন। তাহলে শিশুরাও শিখবে রাগ হলে ভিন্ন আচরণ করা যায়। যখন সে স্বাভাবিক হয়ে আসবে তখন তার সঙ্গে সুন্দর ভাবে কথা বলতে হবে। রাগ না করে সে আর কি কি করতে পারতো সেই সম্পর্কে বলতে হবে। খুব গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শিশুর প্রতি খুব সহানুভূতিশীল হতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুকে কোনোভাবেই আঘাত করবেন না। চার বছর পরে শিশুর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বেড়ে যায়। শিশুরা যাতে সুন্দর আচরন করতে শিখে সেজন্য তাকে ব্যস্ত রাখাতে হবে। সে যেন একঘেয়েমি না হয়ে যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়াও শিশুর পর্যাপ্ত ঘুম, পরিমিত মাত্রায় খেলাধুলা, নিয়মিত বিশ্রাম, পড়া-লেখা সব কিছু নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
কোন মন্তব্য নেই
কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ