হিট
স্ট্রক কি?
হিট স্ট্রোক হল
একটি জীবন এর হুমকি। তাপ দ্বারা অসুস্থতা হওয়া। যখন
শরীর তার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না ঠিক তখন শরীরে অতিরিক্ত
গরম অনুভূত হয়। হিট স্ট্রোক সাধারণত
উচ্চ তাপমাত্রায় দীর্ঘায়িত এক্সপোজার বা গরম আবহাওয়ায় বেশী পরিশ্রমের কারণে ঘটে। হিট স্ট্রোকের সময় তাপমাত্রা 10-15 মিনিটের মধ্যে দ্রুত 104 ° ফারেনহাইট (40 °
সে) বা তার বেশি হতে পারে এবং শরীরের ঘামের প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়,
এটি ঠান্ডা হতে বাধা দেয়। যদি ডাক্তারি পরামর্শ না নেয়া হয় তবে হিট স্ট্রোক স্থায়ীভাবে
মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতির কারণ হতে পারে, যা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
হিট
স্ট্রোক (Heat stroke) বা সান
স্ট্রোক (sun stroke) এক ধরনের
অসুস্থতা, যা অত্যধিক গরমের কারণে হয়ে থাকে। এই অসুখে
শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ᱸ ফারেনহাইট-এর বেশি এবং সাথে শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছরে ৬০০
জনেরও বেশি মানুষ হিট স্ট্রোক-এ মারা যায়। অনেক সময় ধীরে ধীরে এটি ঘটে থাকে, যদিও হুট করে ঘটার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। আমাদের দেশেও এই
রোগ এখন প্রায়ই দেখা দেয় কারণ প্রতিনিয়তই পরিবেশের তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে।
হিট
স্ট্রোক কেমন লাগে?
পরিবর্তিত
মানসিক অবস্থা বা আচরণ। বিভ্রান্তি, আন্দোলন, ঝাপসা কথা, বিরক্তি,
প্রলাপ, খিঁচুনি এবং কোমা সবই হিটস্ট্রোকের
ফলে হতে পারে। ঘামে পরিবর্তন। গরম আবহাওয়ার কারণে হিটস্ট্রোকে, আপনার ত্বক স্পর্শে গরম এবং শুষ্ক অনুভব করবে।
হিট স্ট্রোক লক্ষণ গুলো কি কি?
- চামড়ার রং
লালচে হয়ে যাওয়া
- মানসিক
ভারসাম্যহীনতা
- হাঁটতে
অসুবিধা হওয়া
- চোখের মণি বড় হওয়া
- বমি হওয়া
- ঘন ঘন শ্বাস
নেওয়া
- খিঁচুনি
- অজ্ঞান হয়ে
যাওয়া
- শরীরের
অত্যধিক তাপমাত্রা
- মাথাব্যথা
- দুর্বলতা
- ঝিমুনি
- বমি বমি ভাব
- হার্টবিট
বেড়ে যাওয়া
প্রাথমিক চিকিৎসা
প্রথম পরামর্শ, এই
গরমে কড়া রোদ ও ভিড় এড়িয়ে চলুন।
যেহেতু
এটি একটি জরুরি অবস্থা,
তাই এর চিকিৎসা দ্রুত হওয়া প্রয়োজন। এই রকম পরিস্থিতিতে
প্রথমেই যা করা দরকার তা হলো,
১. রোগীর শরীর ঠান্ডা করা এবং খোলা বা ফাঁকা স্থানে নিয়ে যাওয়া।
২.
ভারি পোশাক পরে থাকলে সেটা চেঞ্জ করে পাতলা সুতি কাপড়ের পোশাক পরিয়ে
দিন।
৩.
ঠান্ডা বাতাসের ব্যবস্থা করুন,
প্রয়োজন
মনে হলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিন।
রোগীর
সুস্থ হতে কয়েকদিন পর্যন্ত সময় লাগবে সেটা এর তীব্রতা বা ধরনের উপর নির্ভর করে।
যদি
সঠিক চিকিৎসা করা না হয় তাহলে হিট স্ট্রোক রোগীর মস্তিষ্ক (brain),
পেশী (muscles),
কিডনি (kidney)
এবং অন্যান্য অঙ্গগুলোকেও
দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা
শুধুমাত্র শরীরের তাপমাত্রা কমানোর জন্য কিছু না করে বরং পানি বা লিকুইড (liquid)
জাতীয় খাবার গ্রহণের উপর
জোর দিতে বলেন।
হিট স্ট্রোক
প্রতিরোধে করণীয়
- দিনের বেলায় বাইরে কম বের হওয়ার চেষ্টা করুন। রোদ
এড়িয়ে চলুন
- বাইরে বের হলে সঙ্গে ছাতা রাখুন। এছাড়া টুপি বা
কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন
- হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরুন
- প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুণ।
- গুরুপাক খাবার না খাওয়া। অর্থাৎ সহজে
হজম হয় এমন খাবার খান। বাসি বা খোলা খাবার খাবেন না।
- দিনের বেলা ছায়া যুক্ত স্থানে
কাজ করার চেষ্টা করুণ। একটানা শারীরিক পরিশ্রম করবেন না।
- সম্ভব হলে বার বার পানি দিয়ে মুখে ঝাপটা দিন বা গোসল করুন
- প্রস্রাবের রং এর নির্ভর
করে পানি পান করবেন।
- ঘরের পরিবেশ খোলামেলা রাখুন। যেন অতিরিক্ত গরম বা ভ্যাপসা না হয় সেদিকে লক্ষ রাখুন
- বেশি অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন
হতে হবে

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ